ব্লগে ফিরে যান

আপনার “বিশ্বস্ত” স্টাফ যে 5টা চালাকি করে

প্রকাশিত পড়তে 2 মিনিট

রিডিং গোল করা, শিফট বদলের ফাঁক, ভিড়ের সময়ের “ভুল”, যোগফলের কারসাজি আর হারানো স্লিপ। হাতে লেখা রিডিংয়ে যেভাবে তেল আর টাকা চলে যায়।

এক পাম্প মালিক ফোন করে বললেন, “স্যার, আমার পাম্পে কিছু একটা গোলমাল, হিসাব মিলছে না। আমার ছেলেটা খুবই সৎ, 10 বছর ধরে কাজ করছে। কিন্তু গত 3 মাসে 1,200 লিটার তেল কম।” আমি পাম্পে গেলাম। 30 মিনিটের মধ্যেই 3টা কৌশল চোখে পড়ল।

কৌশল 1: রিডিং গোল করা

মিটারে 21457.8। রেজিস্টারে লেখা 21450.0। মাত্র 7.8 লিটার। “স্যার, দশমিক পর্যন্ত লিখব কেন?” কিন্তু দিনে 7.8 লিটার করে 30 দিনে 234 লিটার। প্রতি লিটার ৳90 ধরলে মাসে প্রায় ৳21,060। বছরে লাখ টাকার ওপরে, শুধু গোল করে।

কৌশল 2: শিফট বদলের ফাঁক

দিনের শিফটের শেষ রিডিং সন্ধ্যা 6টায় 28945। রাতের শিফটের শুরুর রিডিং 6:05-এ 28930। “স্যার, একটু কনফিউশন হয়েছে, ঠিকমতো পড়তে পারিনি।” 15 লিটার, মানে ৳1,350, প্রতিদিন। এটা সবচেয়ে বিপজ্জনক, কারণ দুই শিফট একে অপরকে দোষ দেয়, মালিক সাধারণত তখন থাকেন না, রেকর্ড এলোমেলো হয়ে যায়, আর প্রমাণ করাও কঠিন।

কৌশল 3: ভিড়ের সময়ের “ভুল”

ভিড়ের সময়, সকাল 7-9টা আর বিকেল 5-7টায়, অনেক কাস্টমার আর হইচই। স্টাফ তাড়াতাড়ি মিটার রিডিং লেখে, কিন্তু ইচ্ছা করেই ভুল, যেমন 8795-এর জায়গায় 8765। “স্যার, তাড়াহুড়োয় ভুল হয়ে গেছে।” মালিক ব্যস্ত সময়ে চেক করেন না, স্টাফকে বিশ্বাস করেন।

কৌশল 4: যোগ-বিয়োগের খেলা

পড়ালেখা জানা স্টাফ এটা করে। সব রিডিং ঠিক রাখে, কিন্তু শেষের হিসাবে ভুল করে। শেষ রিডিং 45678 থেকে শুরুর রিডিং 45234 বাদ দিলে আসলে 444 লিটার, কিন্তু রেজিস্টারে 410। 34 লিটারের পার্থক্য, মানে ৳3,060। মালিক রিডিং দেখেন, ঠিক পান, কিন্তু যোগ-বিয়োগ নিজে মিলিয়ে দেখেন না।

কৌশল 5: হারানো স্লিপ

কিছু স্লিপ “হারিয়ে যায়”। “স্যার, ওই স্লিপটা পাচ্ছি না, হয়তো ভুল করে ফেলে দিয়েছি।” ওই স্লিপে ছিল 120 লিটার তেল বিক্রি, ৳10,800 টাকার লেনদেন। পুরো বিক্রিটাই গায়েব।

এগুলো আমাদের দেশে এত সহজে কাজ করে কেন

  • বিশ্বাসের সংস্কৃতি: “আমার ছেলে ভালো”
  • পারিবারিক ব্যবসা, যেখানে কড়া নজরদারি কম
  • ছোট ক্ষতি উপেক্ষা করা: “এইটুকুই তো”
  • হাতে হিসাব, রিয়েল-টাইম নজরদারি নেই
  • গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে মালিক থাকেন না

অটোমেটিক রেকর্ড কীভাবে এগুলো আটকায়

  • প্রতিটি লিটার সময়সহ নিজে নিজে রেকর্ড হয়। হাতে করার কিছু নেই, তাই কারসাজিও নেই। তথ্য সাথে সাথে ব্যাকআপ হয়
  • শিফট নিজে নিজে খোলে আর বন্ধ হয়, দুই শিফটের মাঝে ফাঁক থাকে না, আর কার দায়িত্বে কী হয়েছে নাম ধরে জানা যায়
  • অস্বাভাবিক কিছু দেখা গেলে SMS, দিনের সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট, আর মোবাইল থেকে দূর থেকে নজর রাখা

সৎ স্টাফরা সাধারণত এটা পছন্দই করে, কারণ এতে তাদের সুনামও রক্ষা পায়। আপনার স্টাফ সৎ কিনা, সেটা নিশ্চিত জানার একটাই উপায়: ডিজিটাল মনিটরিং।

আপনার স্টেশনে এটা কীভাবে কাজ করবে, দেখতে চান?

FuelMatix টিমের সাথে কথা বলুন। আপনার পাম্প বা ডিপোতে বিনামূল্যে সাইট সার্ভে পাবেন।

আমাদের টিমের সাথে কথা বলুন
ব্লগে ফিরে যান

আপনার স্টেশনের কথা ভেবেই তৈরি

নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত?

ইনস্টলেশন ও দামের বিষয়ে আমাদের বাংলাদেশ টিমের সঙ্গে কথা বলুন।